অথচ তারা নিজেদেরকেই ভুলে যায়



তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর! তবে কি তোমরা চিন্তা কর না? -(সূরা বাকারাহ্, আয়াত: ৪৪)

আল্লাহ্ তা'আলা লোকদেরকে আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা ভালো কাজের আদেশ করেন তাদের উচিত প্রথমেই তা বাস্তবায়ন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা। (তাবারী ২/৮) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রহ:) ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন যে, এর ভাবার্থ হল 'অথচ তোমরা নিজেরা তা কার্যকর করতে ভুলে যাও'।

আল্লাহর উপদেশ: তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জানা সত্ত্বেও সত্যকে গোপন করো না



তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না। -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৪২)

উপরোক্ত আয়াতে ইহুদীদেরকে তাদের বদ অভ্যাসের জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। কারণ তারা জানা সত্ত্বেও কখনো সত্য ও মিথ্যাকে গোপন করতো, আবার কখনো সত্যকে গোপন করতো এবং মিথ্যাকে প্রকাশ করতো। তাই তাদেরকে এ কুঅভ্যাস ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে এবং উপদেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারা যেন সত্যকে প্রকাশ করে ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।

পরকালে যাদের থাকবে না কোন ভয়



আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হিদায়াত অনুসরণ করবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও দুঃখিত হবে। -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৩৮)
জান্নাত হতে বের করার সময় হযরত আদম (আ), হযরত হাওয়া (আ) ও ইবলীশকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছিল তারই বর্ণনা হচ্ছে যে- পৃথিবীতে কিতাবদি ও নবী-রসূলগণকে পাঠানো হবে, সত্যপথ প্রকাশ করে দেয়া হবে। অতঃপর যারা আপন আপন যুগের নবী ও কিতাবের অনুসরণ করবে, পরকালে তাদের কোন ভয় থাকবে না এবং দুনিয়া হাতছাড়া হওয়ার কারণে তারা কোন চিন্তাও করবে না।

অহংকারের পরিণাম



'এবং যখন আমি আদম (আঃ)-কে সিজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।' -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৩৪)

আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম (আ) এর এই বড় মর্যাদার কথা বর্ণনা করে মানুষের উপর বড় অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন এবং হযরত আদম (আ) এর সামনে ফেরেশতাদেরকে সিজদাহ করার নির্দেশ দেন। এর প্রমাণ রুপে বহু হাদীস রয়েছে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন যে, ইবলীস ফেরেশতাদের একটি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাদেরকে জ্বীন বলা হয়। তারা অগ্নিশিখা দ্বারা সৃষ্ট ছিল। এই গোত্রটি ছাড়া অন্যান্য সব ফেরেশতা আলো দ্বারা সৃষ্ট ছিল।

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন ...



"আর আত্মীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য অধিকার দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরদেরকেও, আর অপব্যয় ও অপচয় করো না।" -(সূরা আল ইসরা: ২৬)

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই তার মেহমানের ইজ্জত করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। -[বুখারী: ৬০১৮; মুসলিম: ৪৭, ১৪৬৮; তিরমিযী: ১১৮৮]

আল্লাহ যাদের অভিভাবক



"যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৫৭)

আল্লাহ্ তা'আলা এখানে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদেরকে তিনি শান্তির পথ প্রদর্শন করবেন এবং শিরক, কুফর ও সন্দেহের অন্ধকার থেকে বের করে সত্যের আলোর দিকে নিয়ে আসেন। পক্ষান্তরে শয়তানেরা কাফিরদের অভিভাবক। তারা তাদেরকে অজ্ঞতা, ভ্রষ্টতা ও কুফরীতে নিমজ্জিত রাখে এবং সত্যের আলো হতে দূরে সরিয়ে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে।

আল্লাহ্ যা জানেন ফেরেশতাগণও তা জানে না


"আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৩০)

ﺧﻠﻴﻔﺖ শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত হওয়া। কোন কোন মুফাসসিরগণ বলেন যে, খলীফা শব্দ দ্বারা শুধুমাত্র হযরত আদম (আ:) কে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু এটা বিবেচ্য বিষয়। তাফসীরে রাযী প্রভৃতি কিতাবের মধ্যে এই মতভেদ বর্ণনা রয়েছে। বাহ্যত: জানা যাচ্ছে যে, ভাবার্থ এটা নয়। এর প্রমাণতো ফেরেশতাগণের উক্তিই: "তারা ফাসাদ করবে ও রক্তারক্তি করবে।" এটা স্পষ্ট কথা যে, তারা এটা হযরত আদম (আ:) এর সন্তানদের সম্পর্কে বলেছিলেন- খাস করে তাঁর সম্পর্কে নয়।

জমীন ও আকাশ সৃষ্টির ইতিকথা


"তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৯)

এ আয়াত দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, মহান আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলা প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর সাতটি আকাশ নির্মাণ করেছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি অট্টালিকা নির্মাণের এটাই নিয়ম যে, প্রথমে তৈরী করা হয় নিচের অংশ পরবর্তীতে উপরের অংশ।

আল্লাহর অস্তিত্বের জোরালো প্রমাণ



"কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছো? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৮)

আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলার অস্তিত্ব ও ক্ষমতা বর্ণনা করার পর তিনি এই আয়াতে মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেন। এই আয়াতের ব্যাখ্যা হলো, মানুষ তার পিতার পৃষ্ঠে মৃত ছিলো। অর্থাৎ কিছুই ছিলো না। তিনিই (আল্লাহই) তাদেরকে জীবিত করেছেন, আবার তাদেরকে মারবেন। অর্থাৎ মৃত্যু একদিন অবশ্যই আসবে। আবার তিনি তাদেরকে কবর হতে উঠাবেন। এভাবেই মরণ দু'বার এবং জীবন দু'বার।

বিশ্বাসীদের জন্য সু-সংবাদ



"আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৫)

এখানে মুমিন ও সৎলোকের প্রতিদান ও সম্মান হিসেবে জান্নাতের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বপ্রথম অহংকারী ব্যক্তি ও তার শাস্তি



"এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।" -(সূরা বাকারাহ্, আয়াত: ৩৪)

আল্লাহ্ তা'আলা হযরত আদম (আ:) এর এই বড় মর্যাদার কথা বর্ণনা করে মানুষের উপর তাঁর বড় অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন এবং তাদেরকে হযরত আদম (আ:) এর সামনে ফিরিশতাদেরকে সিজদা করার নির্দেশ দেয়ার সংবাদ দিয়েছেন। এর প্রমাণস্বরূপ বহু হাদীস রয়েছে।
"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"