Ticker

5/recent/ticker-posts

কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি



মহান আল্লাহ তাআ’লার বাণী:

(১) নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। [সুরা ইনশিরাহ]

(২) আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন। [সুরা তালাক্ব]

(৩) (জান্নাতে) আমি তাদের অন্তর থেকে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিবো। [সুরা আ’রাফ]

_______________________________

নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

(১) শাহওয়াত (কামনা-বাসনা, ভোগ-বিলাস) দ্বারা জাহান্নামকে ঢেকে রাখা হয়েছে, আর দুঃখ-কষ্ট দ্বারা জান্নাতকে ঢেকে রাখা হয়েছে। [সহীহ বুখারী]

(২) দরিদ্ররা ধনীদের অর্ধেক দিন (অর্থাৎ ৫০০ বছর) পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

_______________________________

মহান আল্লাহ তাআ’লার বাণী:

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

অতঃপর কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি, অবশ্যই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। সুরা ইনশিরাঃ ৫-৬।


ইমাম ইবনে কাসীর রহি’মাহুল্লাহ এই দুইটি আয়াতে কারীমার তাফসীরে লিখেছেনঃ

(এই দুইটি আয়াতে) আল্লাহ তাআ’লা (তার মুমিন বান্দাদের) খবর দিচ্ছেন যে, কষ্ট ও দুঃখের পরেই শান্তি ও সুখ রয়েছে। অতঃপর এই খবরের প্রতি গুরুত্ব আরোপের জন্যে এ কথাটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত আছে যে, একদা নবী করীম সাল্লালাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বসেছিলেন, তাঁর সামনে একটা পাথর ছিল। তখন তিনি বললেন, “যদি মুশকিল বা কষ্টকর অবস্থা আসে এবং এই পাথরের মধ্যে প্রবেশ করে, তাহলে তা থেকে মুক্তি আসবে এবং তা পাথরের মধ্যে প্রবেশ করে তার ভিতর থেকে মুশকিল ও কষ্টকর অবস্থাকে বের করে আনবে।” হাদীসটি ইমাম ইবনু আবী হাতিম রহি’মাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন।


হাসান আল-বসরী রহি’মাহুল্লাহ বলেন যে, লোকেরা বলেঃ একটি মুশকিল দুইটি আসানীর উপর জয়যুক্ত হতে পারে না।


হাসান আল-বসরী রহি’মাহুল্লাহ হতে বর্ণিত আছে যে, একদা নবী করীম সাল্লালাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত হাসি-খুশি মুখে আসলেন এবং তিনি হাসতে হাসতে বললেন, “একটি মুশকিল কিছুতেই দুইটি আসানীর উপর বিজয়ী হতে পারে না। তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন।” এই হাদীসটি ইমাম ইবনু আবী হাতিম রহি’মাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। এটি মুরসাল হাদীস অর্থাৎ এখানে সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। বুঝা যায় যে সমস্যা মাত্র একটি, কিন্তু সমাধান অনেক।

কাতাদা রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “আমাদের কাছে বলা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে সুসংবাদ দিয়েছেন, দুইটি আসানীর উপর একটি মুশকিল জয়যুক্ত হতে পারে না। এই দুইটি আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, সমস্যা মাত্র একটি, আর সমাধান অনেক।”


একটি হাদীসে রয়েছে যে,

“আল্লাহর সাহায্য কষ্ট অনুপাতে আকাশ হতে অবতীর্ণ হয় এবং তা ধৈর্য ও সহনশীলতা অনুযায়ী আসমান হতে নাযিল হয়।”


ইমাম শাফিয়ী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন,

“উত্তম ধৈর্য প্রশস্ততার কতই না নিকটবর্তী। নিজের কাজে যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআ’লার প্রতি খেয়াল রাখে সে মুক্তি লাভ করে। যে আল্লাহর কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, কষ্ট তাকে স্পর্শ করতে পারে না। আল্লাহর কাছে যে ব্যক্তি কল্যাণ প্রত্যাশা করে, সে আশা অনুযায়ীই তা লাভ করে।”


আবু হাতিম সিজিস্তানী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন,

“হতাশা যখন মানুষের অন্তর দখল করে নেয়, বুক যখন প্রশস্ততা সত্ত্বেও সংকীর্ণ হয়ে যায়, দুঃখ-কষ্ট যখন ঘিরে ধরে, বিপদ এসে বাসা বেঁধে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার সৃষ্টি করে, মুক্তির কোন পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, মুক্তির কোন প্রচেষ্টাই সফল হয় না, সেই সময় হঠাৎ আল্লাহর সাহায্য এসে পৌঁছে। আল্লাহ তাআ’লা দুআ শ্রবণকারী। সূক্ষ্মদর্শী আল্লাহ মুশকিলকে আসানীতে রূপান্তরিত করেন এবং যন্ত্রণা, অশান্তিকে সুখ-শান্তি ও আরাম আয়েশে পরিণত করেন। সংকীর্ণতা পুরোপুরি এসে পড়লে আল্লাহ রাব্বুল আলা’মীন সঙ্গে সঙ্গে প্রশস্ততা অবতীর্ণ করতঃ ক্ষতিকে লাভে রূপান্তরিত করে দেন।”


অন্য একজন কবি বলেছেন,

“মানুষের উপর এমন বহু বিপদ আপতিত হয় যাতে সে সংকীর্ণ হৃদয়ের অধিকারী হয়ে যায়, অথচ আল্লাহর কাছে সে সব বিপদে নিমিত্ত নিষ্কৃতিও রয়েছে। এসব বিপদ যখন পরিপূর্ণরূপে আত্মপ্রকাশ করে, বিপদের বন্ধন লাভ করে, মানুষ তখন ভাবতে থাকে যে, এ বিপদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে তো? তখন হঠাৎ করুণাময় আল্লাহর অনুগ্রহ দৃষ্টি পড়ে যায় এবং তিনিই সেই বিপদ এমনভাবে দূর করে দেন যে, মনে হয় যেন বিপদ আসেইনি।”

[উৎস: তাফসীর ইবনে কাছীর, ১৮-তম খন্ড]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ