Ticker

5/recent/ticker-posts

আল্লাহু আকবার (اللَّهُ أَكْبَرُ) অর্থ কি?


সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়খ মুহা’ম্মাদ বিন সালিহ আল-উসায়মিন رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেন,

“আল্লাহু আকবার (اللَّهُ أَكْبَرُ) অর্থ হচ্ছে, হাক্বীকত এবং আক্ষরিক অর্থে আল্লাহ তাআ’লা সমস্ত কিছুর চেয়ে বড় এবং মহান। তিনি ইলম (জ্ঞান), ক্বুদরত (ক্ষমতা), শ্রবণ, দর্শন এবং কর্তৃত্বে সমস্ত কিছুর চেয়ে বড়। এমনকি আল্লাহ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ সত্ত্বাগত দিক থেকেও সবচেয়ে বড়। কেননা, সাত আসমান এবং সাত যমীন পরম করুণাময় আল্লাহর হাতের তালুতে কিসের মত? (এতোটাই ছোট), যেন আমাদের কারো হাতের তালুতে একটা সরিষার দানার মতো! কেননা আল্লাহ তাআ’লা বলেন,

وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦ وَٱلۡأَرۡضُ جَمِيعٗا قَبۡضَتُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطۡوِيَّٰتُۢ بِيَمِينِهِۦۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ

“আর তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করেনি অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে এবং আসমানসমূহ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাদেরকে (আল্লাহর সাথে) শরীক করে, তিনি তাদের উর্ধ্বে।” (সূরা আয-যুমারঃ ৬৭)

আল্লাহ عَزَّ وَ جَلَّ আরও বলেছেন,

يَوۡمَ نَطۡوِي ٱلسَّمَآءَ كَطَيِّ ٱلسِّجِلِّ لِلۡكُتُبِۚ كَمَا بَدَأۡنَآ أَوَّلَ خَلۡقٖ نُّعِيدُهُۥۚ وَعۡدًا عَلَيۡنَآۚ إِنَّا كُنَّا فَٰعِلِينَ

“সেদিন আমরা আসমানসমূহকে গুটিয়ে ফেলব, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর; যেভাবে আমরা প্রথম সৃষ্টির সুচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি, আর আমরা তা পালন করবই।” সূরা আল-আম্বিয়াঃ ১০৪।


সুতরাং, আল্লাহ সবকিছুর চেয়ে বড়, যেমন তাঁর আসমা (সুন্দরতম নামসমূহ) ও সিফাত (সুমহান গুণাবলীতে), একইভাবে তিনি নিজেও সবকিছুর চেয়ে বড়। আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্বের প্রকৃত বাস্তবতা অনুধাবন করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব না। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا যদি আরশ সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, আরশ কত বড় সেটা মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব না, তাহলে চিন্তা করে দেখ, আরশের সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহ) কত বড় সেটা বুঝা মানুষের জন্য কতটা অসম্ভব! ত্বইয়্যিব।

সুতরাং তুমি যখন বলো, اللَّهُ أَكْبَرُ তখন তুমি এটা অনুভব করবে যে, আল্লাহ সবকিছুর চেয়ে বড়। তিনি ইলম, ক্বুদরত, হিকমত, সমস্ত কাজ পরিচালনার দিক থেকে সবচেয়ে মহান, অনুরূপভাবে তিনি নিজে সমস্ত কিছুর চেয়ে বড়।” (শায়খের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ