১৯) সূরা মারইয়াম

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।


১.
كهيعص

কাফ-হা-ইয়্যা-আইন-সাদ

২.
ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا

এটা তোমার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দাহ্ যাকারিয়ার প্রতি।

৩.
إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاء خَفِيًّا

যখন সে তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করেছিল নিভৃতে।

৪.
قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا

সে বলেছিল, হে আমার পালনকর্তা! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে; আর বার্ধক্যে আমার মস্তক সাদা হয়ে গেছে; হে আমার পালনকর্তা! তোমাকে ডেকে আমি কখনো বিফল হইনি।

৫.
وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا

আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রীয়দের (আচরণের) ব্যাপারে, আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন।

৬.
يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا

যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং উত্তরাধিকারী হবে ইয়াকুব বংশের, আর হে আমার পালনকর্তা! তাকে করুন সন্তোষজনক।

৭.
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا

তিনি বললেন, হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কাউকে আখ্যায়িত করিনি।

৮.
قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا

সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র হবে, আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা, আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত।

৯.
قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا

তিনি বললেন, এভাবেই হবে, তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার পক্ষে সহজ। ইতোপুর্বে আমিই তোমাকে সৃষ্টি করেছি এবং তুমি কিছুই ছিলে না।

১০.
قَالَ رَبِّ اجْعَل لِّي آيَةً قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا

সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একটি নির্দশন দিন। তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি তিনদিন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না যদিও তুমি কথা বলতে সক্ষম।

১১.
فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا

অতঃপর সে তার কক্ষ থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে গেল এবং ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহকে স্মরণ করতে বলল।

১২.
يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا

(তার পুত্রের কাছে নির্দেশ আসল) হে ইয়াহইয়া! দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ (তাওরাত) ধারণ কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান করেছিলাম।

১৩.
وَحَنَانًا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَاةً وَكَانَ تَقِيًّا

আর দিয়েছিলাম আমার পক্ষ থেকে দয়া-মায়া ও পবিত্রতা। সে ছিল আল্লাহভীরু।

১৪.
وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّا

আর পিতা-মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত, নাফরমান ছিল না।

১৫.
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا

তার প্রতি শান্তি যেদিন সে জন্মছে এবং যেদিন মৃত্যু হবে এবং যেদিন সে জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।

১৬.
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا

এ কিতাবে (উল্লেখিত) মারইয়ামের কথা বর্ণনা কর, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।

১৭.
فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا

অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য সে পর্দা টানিয়ে দিল। তখন আমি তার কাছে আমার রূহকে (জীবরাঈললকে) প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।

১৮.
قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَن مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا

মারইয়াম বলল, আমি তোমা হতে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।

১৯.
قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا

সে বলল, আমি তো তোমার পালনকর্তা কর্তৃক প্রেরিত হয়েছি, যাতে তোমাকে একটি পুত-পবিত্র পুত্র দান করে যাব।

২০.
قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا

মরিইয়াম বলল, কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?

২১.
قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا

সে বলল, এভাবেই হবে, তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ, আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

২২.
فَحَمَلَتْهُ فَانتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا

অতঃপর সে গর্ভে সন্তান ধারণ করল। তখন তা নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেল।

২৩.
فَأَجَاءهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنسِيًّا

প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে বলে উঠল, হায়! আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম!

২৪.
فَنَادَاهَا مِن تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا

অতঃপর তাকে নিম্নদিক থেকে আওয়াজ দিল যে, তুমি দুঃখ করোনা, তোমার পালনকর্তা তোমার পাদদেশ দিয়ে একটি নহর প্রবাহিত করেছেন।

২৫.
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا

আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর তাজা পরিপক্ক খেজুর পতিত হবে।

২৬.
فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا

অতঃপর আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলবে, আমি রহমান আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাওম মানত করেছি। কাজেই আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।

২৭.
فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا

অতঃপর সে সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত জিনিস নিয়ে এসেছ।

২৮.
يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا

ওহে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মাতাও ছিল না অসতী নারী।

২৯.
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا

অতঃপর সে তার সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করল। তারা বলল, আমরা কেমন করে কোলের শিশুর সাথে কথা বলব?

৩০.
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا

শিশুটি বলে উঠল, আমি তো আল্লাহর বান্দাহ, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

৩১.
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا

আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, নামায ও যাকাতের যতদিন আমি জীবিত থাকি।

৩২.
وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا

আর (তিনি আমাকে করেছেন) আমার মাতার প্রতি সদয়, আর তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।

৩৩.
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا

আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন জীবিত হয়ে উত্থিত হব।

৩৪.
ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ

এই হচ্ছে মারইয়ামের পুত্র ঈসা। (এটাই) সত্যকথা, যে বিষয়ে লোকেরা বিতর্ক করে।

৩৫.
مَا كَانَ لِلَّهِ أَن يَتَّخِذَ مِن وَلَدٍ سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ

আল্লাহ এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন তখন একথাই বলেন, 'হয়ে যাও', আর তা হয়ে যায়।

৩৬.
وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ

আল্লাহই আমার ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই ইবাদত কর, এটা সরল পথ।

৩৭.
فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِن بَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِن مَّشْهَدِ يَوْمٍ عَظِيمٍ

অতঃপর তাদের মধ্যে দলগুলো মতভেদ করল। কাজেই সেই ভয়াবহ দিবসের আগমনকালে কাফিরদের জন্য ধবংস।

৩৮.
أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا لَكِنِ الظَّالِمُونَ الْيَوْمَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

সেদিন তারা কি চমৎকার শুনবে এবং দেখবে, যেদিন তারা আমার কাছে আগমন করবে। কিন্তু আজ জালিমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

৩৯.
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

তুমি তাদেরকে বিপদের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দাও যখন সব ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা উদাসীন আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না।

৪০.
إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ

আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী পৃথিবীর এবং তার উপর যারা আছে তাদের এবং আমারই কাছে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।

৪১.
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا

এ কিতাবে উল্লেখিত ইব্রাহীমের কথা স্মরণ কর। নিশ্চয়ই সে ছিল একজন সত্যবাদী, একজন নবী।

৪২.
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنكَ شَيْئًا

যখন সে তার পিতাকে বলল, হে আমার পিতা! আপনি কেন এমন জিনিসের ইবাদাত করেন যে শুনে না, দেখে না এবং আপনার কোন উপকারে আসে না?

৪৩.
يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا

হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে; যা আপনার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সরল সঠিক পথ দেখাব।

৪৪.
يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيًّا

হে আমার পিতা! আপনি শয়তানের ইবাদত করবেন না, শয়তান হচ্ছে দয়াময়ের অবাধ্য।

৪৫.
يَا أَبَتِ إِنِّي أَخَافُ أَن يَمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمَن فَتَكُونَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيًّا

হে আমার পিতা! আমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের একটি আযাব আপনাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর আপনি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবেন।

৪৬.
قَالَ أَرَاغِبٌ أَنتَ عَنْ آلِهَتِي يَا إِبْراهِيمُ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ لَأَرْجُمَنَّكَ وَاهْجُرْنِي مَلِيًّا

পিতা বলল, হে ইব্রাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের (দেবদেবীগুলো) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।

৪৭.
قَالَ سَلَامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا

ইব্রাহীম বলল, আপনার প্রতি সালাম, আমি আমার পালনকর্তার কাছে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। তিনি আমার প্রতি বড়ই মেহেরবান।

৪৮.
وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاء رَبِّي شَقِيًّا

আমি পরিত্যাগ করছি আপনাদেরকে এবং আপনারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত কর তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তাকে ডাকি। আশা করি, আমার পালনকর্তাকে ডেকে আমি বঞ্চিত হব না।

৪৯.
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَهَبْنَا لَهُ إِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا

অতঃপর সে যখন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করত তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম।

৫০.
وَوَهَبْنَا لَهُم مِّن رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا

আমি তাদেরকে দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সুউচ্চ সুখ্যাতি।

৫১.
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا

এই কিতাবে উল্লেখিত মূসার কথা স্মরণ কর, সে ছিল বিশেষভাবে মনোনীত, আর সে ছিল একজন রাসূল ও নবী।

৫২.
وَنَادَيْنَاهُ مِن جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا

আমি তাকে আহবান করলাম তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে এবং গোপনে আলোচনার উদ্দেশ্যে তাকে নিকটবর্তী করলাম।

৫৩.
وَوَهَبْنَا لَهُ مِن رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا

আর আমি নিজ অনুগ্রহে তাকে দান করলাম তার ভাই হারুনকে, সেও ছিল একজন নবী।

৫৪.
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَّبِيًّا

এ কিতাবে উল্লেখিত ইসমাঈলের কথা স্মরণ কর, সে ছিল প্রতিশ্রুতি রক্ষায় (দৃঢ়) সত্যবাদী, আর সে ছিল রসূল ও নবী।

৫৫.
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا

সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিত, আর সে ছিল তার পালনকর্তার কাছে সন্তুষ্টির পাত্র।

৫৬.
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا

এ কিতাবে উল্লেখিত ইদ্রীসের কথা স্মরণ কর, সে ছিল সত্যবাদী, একজন নবী।

৫৭.
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا

আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম।

৫৮.
أُوْلَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ مِن ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا

এরাই হল তারা আদম বংশের নবীগণের মধ্য থেকে যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নিয়ামত দান করেছেন এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের বংশধরদের থেকে, আর ইবরাহীমের বংশধরদের থেকে ও ইসরাঈলের বংশধরদের থেকে, আর এরা ছিল তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছিলাম এবং বাছাই করে নিয়েছিলাম। এদের অবস্থা এই ছিল যে, যখন করুণাময়ের আয়াত এদেরকে শুনানো হতো তখন কান্নারত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়তো। [সিজদাহ্]

৫৯.
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا

অতঃপর তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির বশবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।

৬০.
إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا

কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে। ফলে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না।

৬১.
جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدَ الرَّحْمَنُ عِبَادَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّهُ كَانَ وَعْدُهُ مَأْتِيًّا

তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত, যার ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন। তাঁর ওয়াদার অবশ্যই পূরণ হবে।

৬২.
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَامًا وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيًّا

তারা সেখানে শান্তির সম্ভাষণ ব্যতীত কোন অসার কথাবার্তা শুনবে না। আর সেখানে সকাল-সন্ধ্যা তাদের জন্য থাকবে জীবন ধারণের উপকরণ।

৬৩.
تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّا

এটা হল সেই জান্নাত যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে মুত্তাকীদেরকে।

৬৪.
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَلِكَ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا

(ফেরেশতাগণ বলে) আমরা আপনার পালনকর্তার আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা এ দুই-এর মধ্যস্থলে আছে তা তাঁরই, আপনার পালনকর্তা কক্ষনো ভুলে যান না।

৬৫.
رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا

তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডলে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবার পালনকর্তা। সুতরাং তুমি তাঁরই ইবাদাত কর এবং তাতে দৃঢ় থাক। তুমি কি তাঁর সমনাম (গুণসম্পন্ন) কাউকে জান?

৬৬.
وَيَقُولُ الْإِنسَانُ أَئِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا

মানুষ বলে, আমার মৃত্যু হলে, তারপর আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব?

৬৭.
أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا

মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতিপূর্বে সৃষ্টি করেছি আর সে তখন কিছুই ছিল না।

৬৮.
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا

সুতরাং তোমার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে একত্রিত করব আর শয়তানদেরকেও। অতঃপর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব।

৬৯.
ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا

অতঃপর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে যে দয়াময় আল্লাহর সর্বাধিক অবাধ্য আমি অবশ্যই তাকে পৃথক করে নেব।

৭০.
ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا

আর তাদের মধ্য হতে যারা জাহান্নামে প্রবেশের অধিক যোগ্য, আমি তাদের বিষয়ে ভালোভাবেই জ্ঞাত আছি।

৭১.
وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا

তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে জাহান্নাম অতিক্রম করতে হবে না। এটা তোমার পালনকর্তার অনিবার্য ফয়সালা।

৭২.
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَّنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا

অতঃপর আমি মুত্তাকীদেরকে রক্ষা করব আর জালিমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় রেখে দেব।

৭৩.
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَّقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا

যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ আর মজলিস হিসেবে কোনটি উত্তম?

৭৪.
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هُمْ أَحْسَنُ أَثَاثًا وَرِئْيًا

তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, যারা তাদের চাইতে সম্পদে ও চাকচিক্যে শ্রেষ্ঠ ছিল।

৭৫.
قُلْ مَن كَانَ فِي الضَّلَالَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمَنُ مَدًّا حَتَّى إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ إِمَّا الْعَذَابَ وَإِمَّا السَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضْعَفُ جُندًا

বল, যারা পথভ্রষ্টতায় আছে, দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দেবেন; যে পর্যন্ত না তারা প্রত্যক্ষ করবে যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে- তা আযাব হোক কিংবা কিয়ামতই হোক। তখন তারা জানতে পারবে মর্যাদায় কে নিকৃষ্ট আর জনবলে দুর্বল।

৭৬.
وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ مَّرَدًّا

যারা সৎপথে সন্ধান করে, আল্লাহ তাদেরকে অধিক হিদায়াত দান করেন। আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।

৭৭.
أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا

তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ যে, আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না এবং বলে, আমাকে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অবশ্যই দেয়া হবে।

৭৮.
أَاطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَنِ عَهْدًا

সে কি অদৃশ্য বিষয় জেনে ফেলেছে, নাকি দয়াময় আল্লাহর নিকট থেকে কোন প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হয়েছে?

৭৯.
كَلَّا سَنَكْتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا

না, এটা ঠিক নয়। সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব আর আমি তার শাস্তি দীর্ঘায়িত করতেই থাকব।

৮০.
وَنَرِثُهُ مَا يَقُولُ وَيَأْتِينَا فَرْدًا

সে যা বলে, মৃত্যুর পর আমি তা নিয়ে নেব এবং সে আমার কাছে আসবে একাকী।

৮১.
وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِّيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّا

তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্য সাহায্যকারী হয়।

৮২.
كَلَّا سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا

কখনই নয়, তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে।

৮৩.
أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا

তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আমি কাফিরদের উপর শয়তানকে ছেড়ে দিয়েছি। সে তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে।

৮৪.
فَلَا تَعْجَلْ عَلَيْهِمْ إِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّا

কাজেই তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করোনা। আমি তো গুণে রাখছি তাদের জন্য নির্দিষ্ট (দিবসের) সংখ্যা।

৮৫.
يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا

সেদিন দয়াময়ের কাছে মুত্তাকীদেরকে অতিথিরূপে সমবেত করব,

৮৬.
وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَى جَهَنَّمَ وِرْدًا

আর অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।

৮৭.
لَا يَمْلِكُونَ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِندَ الرَّحْمَنِ عَهْدًا

যে দয়াময় আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যতীত আর কেউ সুপারিশ করার অধিকারী হবে না।

৮৮.
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا

তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।

৮৯.
لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا

নিশ্চয় তোমরা তো এক ভয়ানক বিষয়ের অবতারণা করেছ।

৯০.
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا

যাতে নভোমন্ডল ফেটে পড়ার, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবার এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচুর্ণ হবার উপক্রম হয়েছে।

৯১.
أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا

এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি সন্তান আরোপ করে।

৯২.
وَمَا يَنبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا

অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়।

৯৩.
إِن كُلُّ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا

নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে কেউ নেই যে, দয়াময় আল্লাহর কাছে বান্দাহ হয়ে উপস্থিত হবে না।

৯৪.
لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا

তিনি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদেরকে গণনা করে রেখেছেন।

৯৫.
وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا

কিয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে।

৯৬.
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ ভালবাসা দান করবেন।

৯৭.
فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنذِرَ بِهِ قَوْمًا لُّدًّا

আমি কুরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার আর ঝগড়াটে লোকদেরকে সতর্ক করতে পার।

৯৮.
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُم مِّنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا

তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তুমি কি তাদের একজনকেও (এখন) দেখতে পাও অথবা তাদের ক্ষীনতম আওয়াজও কি শুনতে পাও?
"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"