৫৭) সূরা আল হাদীদ

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।


১.
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে সবাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, তিনি মহাশক্তিধর; মহা প্রজ্ঞাময়।

২.
لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই, তিনি জীবন দান করেন আর তিনিই মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

৩.
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশিত আবার গুপ্ত, তিনি সকল বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।

৪.
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاء وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে, আর যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সাথে আছেন। তোমরা যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ তা দেখেন।

৫.
لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الأمُورُ

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। সবকিছু তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।

৬.
يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَهُوَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

তিনিই রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করেন রাত্রিতে। তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।

৭.
آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُم مُّسْتَخْلَفِينَ فِيهِ فَالَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَأَنفَقُوا لَهُمْ أَجْرٌ كَبِيرٌ

তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন, তাত্থেকে (আল্লাাহর পথে) ব্যয় কর। কারণ, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

৮.
وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا بِرَبِّكُمْ وَقَدْ أَخَذَ مِيثَاقَكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছ না, অথচ রসূল তোমাদেরকে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত দিচ্ছে, আর তিনি (আল্লাহ) তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন, যদি তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাক।

৯.
هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَإِنَّ اللَّهَ بِكُمْ لَرَؤُوفٌ رَّحِيمٌ

তিনিই তাঁর বান্দাহর প্রতি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেন তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্য। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড়ই করুণাময়, পরম দয়ালু।

১০.
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

তোমাদের হল কী যে তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে না! নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকার তো আল্লাহরই জন্য। তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জিহাদ করেছে তারা সমান নয় (তাদের, যারা তা বিজয়ের পরে করেছে)। এরূপ লোকদের মর্যাদা অনেক বড় তাদের অপেক্ষা যারা পরে ব্যয় করেছে ও জিহাদ করেছে। তবে উভয়ের জন্যই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবগত।

১১.
مَن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ وَلَهُ أَجْرٌ كَرِيمٌ

এমন কে আছে যে,আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিবে? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানজনক প্রতিফল।

১২.
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

সেদিন তুমি ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে দেখবে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটতে থাকবে। (তাদেরকে বলা হবে) আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তাতে (তোমরা) চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।

১৩.
يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ

সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা মুমিনদেরকে বলবে- তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের জ্যোতি থেকে আমরা কিছুটা নিয়ে নেই। তাদেরকে বলা হবে- তোমরা পেছনে ফিরে যাও আর আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝে একটি প্রাচীর খাড়া করে দেয়া হবে, যার থাকবে একটি দরজা। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমাত আর বাইরে থাকবে আযাব।

১৪.
يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاء أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ

তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে- আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ, তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে (আমাদের ধ্বংসের জন্য), তোমরা সন্দেহে পতিত ছিলে, আর মিথ্যা আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছিলে। অবশেষে আল্লাহর আদেশ এসে গেল, আর বড় প্রতারক (শাইতান) তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করল।

১৫.
فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مَأْوَاكُمُ النَّارُ هِيَ مَوْلَاكُمْ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর কাফিরদের কাছ থেকেও না। তোমাদের সবার আবাসস্থল জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের যথাযোগ্য স্থান। কতই না নিকৃষ্ট সেই আশ্রয়স্থল।

১৬.
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ

যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সে সময় কি এখনও আসেনি যে আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের হৃদয় বিগলিত হয়ে যাবে? তারা যেন তাদের মত না হয় যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়ে গেল আর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে পড়ল। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।

১৭.
اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

জেনে রেখ, আল্লাহই যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেন। আমি তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে নিদর্শন বর্ণনা করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।

১৮.
إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ

নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ঋণ দেয়, তাদেরকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে, আর তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।

১৯.
وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاء عِندَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ। তাদের জন্যে রয়েছে তাদের পুরস্কার ও জ্যোতি। আর যারা কাফির আর আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী।

২০.
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ

তোমরা জেনে রেখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা আর ধন-মাল ও সন্তানাদিতে প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। যেমন- এক বৃষ্টি, আর তা হতে উৎপন্ন শষ্যাদি কৃষকের মনকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে হলুদ বর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। (পাপাচারীদের জন্য) পরকালে আছে কঠিন শাস্তি, (আর নেককারদের জন্য) আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার বস্তু ছাড়া কিছুই না।

২১.
سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاء وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

তোমরা এগিয়ে যাও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।

২২.
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ

পৃথিবীতে অথবা তোমাদের নিজেদের উপর কোন বিপদ আসে না যা আমি সংঘটিত করার পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।

২৩.
لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

এটা এজন্যে যে, তোমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য তোমরা যেন দুঃখিত না হও, আর তোমাদেরকে যা দান করা হয়েছে তজ্জন্যে তোমরা যেন উল্লাসিত না হও। কেননা আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না,

২৪.
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ

যারা কৃপণতা করে আর মানুষকে কৃপণতার প্রতি উৎসাহ দেয় এবং যে ব্যক্তি (আল্লাহর পথ হতে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।

২৫.
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ

আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও (সত্য মিথ্যার) মানদন্ড, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ বড়ই শক্তিধর, মহাপরাক্রমশালী।

২৬.
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِمَا النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ فَمِنْهُم مُّهْتَدٍ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ

আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে নবুওয়াত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছিলাম। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে আর অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী।

২৭.
ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِم بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاء رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ

অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছিলাম আমার রসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে আর তাকে দিয়েছিলাম ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছিলাম নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্যবাদ, তা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য; আমি এটা তাদের উপর অপরিহার্য করিনি। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তাও পালন করতে পারেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছিলাম। আর তাদের অধিকাংশই ছিল পাপাচারী।

২৮.
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

ওহে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন, আর তিনি তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

২৯.
لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِّن فَضْلِ اللَّهِ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

(আমি আহলে কিতাব ছাড়া অন্যদের নুবুওয়াত দিলম) এজন্য যে, কিতাবধারীরা যেন জেনে নিতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের কোন কিছুর উপরই তাদের কোন ক্ষমতা নেই, আর অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"