মানুষ খুবই দ্রুততা প্রিয়



মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততা প্রিয়। -[সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ১১]

এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মানুষের একটি বদ অভ্যাসের কথা উলল্লেখ করেছেন। আর তা হচ্ছে মানুষ কখনো কখনো মনভাঙ্গা ও নিরাশ হয়ে গিয়ে ভুল করে নিজের জন্য অমঙ্গলের প্রার্থনা করতে শুরু করে। মাঝে মাঝে নিজের মাল-ধন ও সন্তান-সন্ততির জন্য বদ'দুআ করতে লাগে। কখনো মৃত্যুর, কখনো ধ্বংসের এবং কখনো অভিশাপের দুআ করে। কিন্তু তার প্রতিপালক আল্লাহ তার নিজের চেয়েও তার উপর বেশি দয়ালু। এদিকে সে দুআ করে আর ওদিকে যদি তিনি কবুল করে নেন তবে সাথে সাথেই সে ধ্বংস হয়ে যায় (কিন্তু তিনি তা করেন না)।

এই যেমন একটু রেগে গেলেই সন্তানের প্রতি বাবা-মা এর বদদুআ, একটু কষ্ট পেলেই স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অকৃতজ্ঞতা, একটু অসুস্থ হতেই অধৈর্য হয়ে পড়া সবই যেন আমাদের বদ অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। যা থেকে ফিরে আসা খুবই জরুরি। অন্যথায় নিজের ক্ষতি নিজেই যেন তরান্বিত করবো।

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, তোমরা নিজেদের জান ও মালের জন্য বদ দুআ করো না। নচেৎ কবুল হওয়ার মূহর্তে হয়তো কোন খারাপ কথা মুখ দিয়ে বেড়িয়ে পড়বে।

আর একমাত্র কারণ হচ্ছে মানুষের চাঞ্চল্যকর অবস্থা ও দ্রুততা। এরই প্রেক্ষিতে হযরত সালমান ফারসী (রা) ও ইবনু আব্বাস (রা) হযরত আদম (আ) এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, তখন তাঁর রুহ তার পায়ের নিম্নদেশ পর্যন্ত পৌঁছে নাই, অথচ তখনই তিনি দাঁড়াবার চেষ্টা করেন।


তথ্যসূত্র:
  • তাফসীর ইবনে কাসীর    

৩টি মন্তব্য:

"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"