অথচ তারা নিজেদেরকেই ভুলে যায়



তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর! তবে কি তোমরা চিন্তা কর না? -(সূরা বাকারাহ্, আয়াত: ৪৪)

আল্লাহ্ তা'আলা লোকদেরকে আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা ভালো কাজের আদেশ করেন তাদের উচিত প্রথমেই তা বাস্তবায়ন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা। (তাবারী ২/৮) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রহ:) ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন যে, এর ভাবার্থ হল 'অথচ তোমরা নিজেরা তা কার্যকর করতে ভুলে যাও'।

কিতাবীদেরকে লক্ষ্য করা বলা হচ্ছে, যারা অন্যকে ভালো কাজের আদেশ করে থাকে, অথচ নিজেরা তা পালন করেনা। তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে, এটা জানা সত্ত্বেও যে কিতাবীরা এ কাজ করছে এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপারই বটে। তাই তাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারা অপরকে যেমন আল্লাহভীতি ও পবিত্রতার কথা শিক্ষা দিচ্ছে, তাদের নিজেদেরও তার উপর আমল করা উচিত। অপরকে সালাত-সিয়ামের নির্দেশ দেয়া, অথচ নিজে পালন না করা বড়ই লজ্জার কথা।

এখানে এটা স্মরন রাখতে হবে যে, ভালো কাজের নির্দেশ দেয়ার জন্য আহলে কিতাবদেরকে তিরস্কার করা হয়নি, বরং তারা নিজেরা পালন না করার জন্য তিরস্কৃত হয়েছে। ভালো কথা বলা তো ভালোই, বরং এটা তো ওয়াজিব। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নিজেরও তার প্রতি আমল করা উচিত।

মুসনাদে আহমাদে আছে যে, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম বলেছেন-
মিরাজের রাতে আমি দেখেছি যে, কতকগুলো লোকের ওষ্ঠ আগুনের কাঁচি দ্বারা কাটা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম যে, এরা কার? তখন আমাকে বলা হল যে, এরা আপনার উম্মাতের বক্তা, উপদেশ দাতা ও আলেম। এরা মানুষকে ভালো কথা শিক্ষা দিত কিন্তু নিজে আমল করতোনা, জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বুঝতোনা।

অন্য হাদীসে এসেছে তাদের জিহ্বা ও ওষ্ঠ উভয়ই কাটা হচ্ছিলো। অর্থাৎ আমলহীন উপদেশদাতার শাস্তি খুবই কঠিন।

কুরআনুল কারীমের অন্যত্র আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
হে মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই নিন্দনীয়। (সূরা আছ-ছফ, আয়ত: ২-৩)

তথ্যসূত্র:
  • তাফসীর ইবনে কাছীর

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"