কুরআনিক চ্যালেঞ্জ



"এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।" -(সূরা বাকারাহ্, আয়াত: ২৩)

এই আয়াতে আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলা নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণ করেছেন। কাফিরদের সম্বোধন করে এখানে বলা হচ্ছে: আমি (আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলা) যে পবিত্র কুরআন আমার বিশিষ্ট বান্দা মুহাম্মদ (সা:) এর উপর অবতীর্ণ করেছি, তাকে যদি তোমরা আমার বানী বলে বিশ্বাস না করো, তবে তোমরা ও তোমাদের সাহায্যকারী সবাই মিলে পূর্ণ কুরআন তো নয় বরং শুধুমাত্র ওর একটি সূরার মতো সূরা আনয়ন করো। তোমরা তো তা করতে পারবেনা, তাহলে এটি যে আল্লাহর কালাম এতে সন্দেহ করছো কেন?

আর একথা আরো স্পষ্ট করে আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলা বলেন: "আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৪)

তিনি আরো বলেন: 'তারা কি বলে? কুরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে। অতঃপর তারা যদি তোমাদের কথা পুরণ করতে অপারগ হয়; তবে জেনে রাখ, এটি আল্লাহর এলম দ্বারা অবতীর্ণ হয়েছে; আরো একীন করে নাও যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। অতএব, এখন কি তোমরা আত্নসমর্পন করবে?' -(সূরা হুদ, আয়াত: ১৩-১৪)

অর্থাৎ উপরের আয়াতসমূহে আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরে উপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব ও তাঁর নিকট অবতীর্ণ কুরআনুল কারীমের সত্যতা ঘোষণা দিলেন এবং অবিশ্বাসীদের প্রতি এমন এক চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, যাতে অবিশ্বাসীরা চিরদিনের জন্য পরাজিত।


তথ্যসূত্র:
  • তাফসীর ইবনে কাছীর

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"