অন্ধকারে পতিত হওয়া একটি দল



"তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিককার সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট কররে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৭)

এ আয়াতটিতে মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। মুনাফিকরা সঠিক পথের পরিবর্তে ভ্রান্ত পথ এবং দৃষ্টির পরিবর্তে দৃষ্টিহীনতাকে ক্রয় করে থাকে। তাদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে অন্ধকারে আগুন জ্বালিয়েছে, তার ফলে আশে পাশের জিনিস তার চোখে পড়েছে, মনের উদ্বিগ্নতা দূর হয়ে উপকার লাভের আশার সঞ্চার হয়েছে, এমন সময় হঠাৎ আগুন নিভে গেছে এবং চারদিক ভীষণ অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। কাজেই সে রাস্তা দেখতে পাচ্ছে না।

এছাড়া লোকটি বধির, সে কারো কথা শুনতে পায়না, সে বোবা, কাউকে কিছু বলতে পারেনা, সে অন্ধ, সে আলোতেও কাজ চালাতে পারেনা। এখন তাহলে সে পথ পাবে কি করে? মুনাফিকরা ঠিক তারই মতো। সঠিক পথ ছেড়ে দিয়ে তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে এবং ভালো ছেড়ে দিয়ে মন্দের কামনা করছে। আর মুনাফিদের এই অবস্থাকে স্পষ্ট করে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
'তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।' -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ এবং অন্যান্য সাহাবীগণ (রা:) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন যে: যখন রসূল (সা:) মদীনায় গমন করলেন, তখন এমন কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করে, যারা সত্বর আবার মুনাফিক্ব হয়ে যায়। তাদের দৃষ্টান্ত ঐ লোকের মতো যে অন্ধকারে ছিলো, তারপর সে বাতি জ্বালালো। ফলে তার চতুর্দিকে আলোকিত হয়ে গেল এবং উপকারী ও অপকারী জিনিস তার সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল। হঠাৎ সে বাতি নিভে গেল এবং পুনরায় চতুর্দিকে অন্ধকার নেমে আসলো। এ অবস্থা হল মুনাফিকদের। প্রথমে তারা শিরকের অন্ধকারে ডুবে ছিলো। তারপর মুসলিম হয়ে আলোয় আসে, হালাল-হারাম এবং ভালো-মন্দ জেনে যায়। অতঃপর তারা আবার কুফরী ও শিরকের দিকে ফিরে যায়। ফলে সমস্ত আলো নিভে যায়। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তথ্যসূত্র:

  • তাফসীর ইবনে কাছীর
  • আহসানুল বায়ান

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"