সাবধান! এরাই অশান্তি সৃষ্টিকারী



"আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।" -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১১)

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা:), হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রা:) এবং রাসূলুল্লাহ (সা:) এর আরও কয়েকজন সাহাবী (রা:) হতে বর্ণিত আছে যে, এ আয়তেও মুনাফিকদের বর্ণনা রয়েছে এবং বিবাদ বিপর্যয় সৃষ্টি, কুফর এবং অবাধ্যতা সম্পর্কে মুসলিমদেরকে হুঁশিয়ার ও সতর্ক করা হচ্ছে। অর্থাৎ এ দুনিয়ায় আল্লাহর অবাধ্য হওয়া এবং অন্যকে নাফরমান ও অবাধ্য হওয়ার আদেশ করাই হচ্ছে দুনিয়ার বুকে বিবাদ সৃষ্টি করা। আর যমীন ও আসমানের শান্তি রয়েছে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে।

হযরত সালমান ফারেসী (রা:) বলেন: 'এই স্বভাবের লোক আজ পর্যন্ত আসেনি।' ভাবার্থ এই যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) এর যামানায় তো এরুপ স্বভাবের লোক বিদ্যমান ছিলোই কিন্তু এখন যারা আসবে তারা তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট হবে।

ইমাম ইবনে জারীর (রহ:) বলেন যে, এ মুনাফিকদের বিবাদ ও গণ্ডগোল সৃষ্টি করার অর্থ হচ্ছে তারা এসব কাজ করতো যা করতে আল্লাহ্ তা'আলা নিষেধ করেছিলেন এবং তাঁর ফরযগুলো ও তারা অবহেলা করতো। মুমিনদের কাছে তাদের ঈমানের কথা প্রচার করতো অথচ তাদের অন্তর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সা:) সম্বন্ধে সন্দেহে পরিপূর্ণ ছিলো। তারা সুযোগ পেলেই আল্লাহর শত্রুদের সাহায্য ও সহায়তা করতো।

আর আল্লাহ্ তা'আলা মুমিনদের ব্যতীত অন্যদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করে বলেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিনদের ছেড়ে কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না।....." (৪: ১৪৪)

অতঃপর তিনি অমান্যকারীদের (মুনাফিকদের) হুঁশিয়ার করে বলেন: "নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা রয়েছে দোযখের সর্বনিম্ন স্তরে। আর তোমরা তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী কখনও পাবে না।" (৪: ১৪৫)

প্রত্যেক যুগের মুনাফিদের কাজই হলো যে, তারা অশান্তি সৃষ্টি করে, অন্যায়ের প্রচার-প্রসার করে এবং আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে। কিন্তু তারা দাবি করে, তারা সংস্কার, শান্তি ও উন্নতি করার চেষ্টায় লেগে আছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ধোকা। যেমনটি আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট করেছেন:

"সাবধান! এরাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু এরা তা অনুভব করতে পারেনা।" (২:১২)

তথ্যসূত্র: 

  • তাফসীর ইবনে কাছীর
  • আহসানুল বায়ান

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"