কুরআনুল কারীমের কিছু বিশেষ শব্দ


الم

'আলিফ-লাম-মীম' - (সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১)


এই খণ্ডকৃত অক্ষরগুলো যা অনেক সূরার প্রথমে এসেছে, এগুলোর তাফসীরের ব্যাপারে মুফাসসিরদের মধ্যে বেশ মতভেদ রয়েছে।

কেউ কেউ বলেন যে, এগুলোর মর্মার্থ শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলাই সম্যক অবহিত। অন্য কেউ এগুলোর অর্থ জানে না। এ জন্য তাঁরা এ অক্ষরগুলোর তাফসীর করেন না। ইমাম কুরতবী (র:) একথা হযরত আবু বকর (রা:), হযরত উমার (রা:), হযরত উসমান (রা:), হযরত আলী (রা:) এবং হযরত ইবনে মাসঊদ (রা:) হতে নকল করেছেন। আমির শা'বী (র:), সুফইয়ান সাওরী (র:) এবং রাবী বিন খাইসামও (র:) এই অভিমতের সমর্থনকারী।

আবার অনেকে এ অক্ষরগুলোর তাফসীর করে থাকেন এবং তা করতে গিয়ে বিভিন্নরুপে তাৎপর্য বর্ণনা করেন। এতে বেশ কিছু মতভেদও পরিলক্ষিত হয়।

আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম (র:) বলেন যে, এগুলো সূরাসমূহেরই নাম। আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ তাঁর 'কাশশাফ' নামক তাফসীরে লিখেছেন যে, অধিকাংশ লোক এ কথার উপরই একমত। বিখ্যাত বৈয়াকরণ সিবওয়াইহ্ও এই অভিমত পোষণ করেন।

হযরত মুজাহিদ (র:) হতেই বর্ণিত আছে, 'আলিফ-লাম- মীম' কুরআনের নামসমূহের মধ্যে একটি বিশেষ নাম। হযরত কাতাদাহ্ (র:) এবং হযরত যায়েদ বিন আসলামেরও (র:) উক্তি এটাই। সম্ভবত: এ উক্তির মর্ম ও ভাবার্থ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ বিন আসলামের উক্তির সাথে মিলে যায়, যে উক্তিটি তিনি বলেন, "এগুলো সূরাসমূহেরই নাম, কুরআনুল কারীমের নাম নয়। প্রত্যেক সূরাকে কুরআন বলা যেতে পারে, কিন্তু 'আলিফ-লাম -মীম' পূর্ণ কুরআনের নাম হতে পারে না।" (এসব ব্যপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী)

কোন কোন মুফাসসির বলেন যে, এগুলো আল্লাহ তা'আলারই নাম। হযরত শাবী (র:), হযরত সালিম বিন আব্দুল্লাহ (র:) এবং ইসমাঈল বিন আব্দুর রহমান সুদ্দী কাবীর (র:) একথাই বলে থাকেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত আছে যে, 'আলিফ-লাম- মীম' আল্লাহ তা'আলার একটি বিশেষ নাম। অন্য বর্ণনায় আছে এগুলো আল্লাহর কসম বা শপথ এবং তাঁর নামও বটে। হযরত ইকরামাহ (রা:) বলেন যে, এগুলো কসম। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, এর অর্থ হচ্ছে, 'আমিই আল্লাহ সব জান্তা'।

ইমাম ইবনে জারীর (র:) এসব মতের মধ্যে সামঞ্জস্য দান করেছেন অর্থাৎ সাব্যস্ত করেছেন যে, এর মধ্যে এমন কোন মতবিরোধ নেই যা একে অপরের উল্টা। হতে পারে এগুলো সূরা সমূহের নাম, আল্লাহ তা'আলার নাম এবং সূরার আদ্য শব্দসমূহও বটে। (এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক ভালো জানেন)

তবে একথা সুস্পষ্ট যে, কুরআন থেকে হিদায়াত লাভ করা এ শব্দগুলোর অর্থ বুঝার ওপর নির্ভরশীল নয়৷ অথবা এ হরফগুলোর মানে না বুঝলে কোন ব্যক্তির সরল সোজা পথ লাভের মধ্যে গলদ থেকে যাবে , এমন কোন কথাও নেই৷ কাজেই একজন সাধারণ পাঠকের জন্য এর অর্থ অনুসন্ধানে ব্যাকুল হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই৷


তথ্যসূত্র:
  • তাফসীর ইবনে কাছীর
  • তাফহীমুল কুরআন

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আপনার পালনকর্তা অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।"